হাওর অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতির শঙ্কা

সারাদেশ

Share This News !

 হাওর অঞ্চলের নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আর এই অবস্থায় বাঁধ ভেঙে পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়েছে।

ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতির শঙ্কা রয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, নেত্রকোণা, সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জের প্রধান প্রধান নদ-নদীর পানির সমতল বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগামী কয়েক দিনে আরও বাড়বে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুজ্জামান ভূঁইয়া জানিয়েছেন, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সিলেট জেলার প্রধান নদ-নদীর পানির সমতল হ্রাস পাচ্ছে। অপরদিকে সুনামগঞ্জ, নেত্রকোণা ও হবিগঞ্জজেলার প্রধান নদ-নদীর পানির সমতল বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর ও ভারত আবহাওয়া অধিদপ্তরের গাণিতিক মডেলের তথ্যানুযায়ী, আগামী তিনদিন দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং তৎসংলগ্ন ভারতের আসাম, মেঘালয় ও অরুণাচল প্রদেশে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

এ অবস্থায় মঙ্গলবার (১৯ এপ্রিল) পর্যন্ত সিলেট জেলার প্রধান নদ-নদীসমূহের পানির সমতল হ্রাস অব্যাহত থাকতে পারে। এই সময়ে সুনামগঞ্জ জেলার প্রধান নদ-নদীসমূহের পানির সমতল ধীরগতিতে বাড়তে পারে এবং কতিপয় পয়েন্টে বিপৎসীমার কাছাকাছি অবস্থান করতে পারে।  এছাড়া নেত্রকোণা জেলার প্রধান নদ-নদীসমূহের পানি সমতল ধীরগতিতে বাড়তে এবং বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা অবনতি হতে পারে।
 
বৃহস্পতিবার (২১ এপ্রিল) নাগাদ সিলেট, সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোণা জেলার প্রধান নদ-নদীসমূহের পানির সমতল ভারী বৃষ্টির পরিপ্রেক্ষিতে সময় বিশেষে দ্রুত বাড়তে পারে।

পাউবো জানিয়েছে, বিভিন্ন নদ-নদীতে তাদের পর্যবেক্ষণাধীন ৩৯টি স্টেশনের মধ্যে সোমবার (১৮ এপ্রিল) পানির সমতল বেড়েছে ১৪টিতে, কমেছে ২৩টিতে আর অপরিবর্তিত আছে দুটি স্টেশনের পানির সমতল।

বর্তমানে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে সারিগোয়াইন ও বাউলাই নদীর পাানি। সারিগোয়াইন নদীর পানি গোয়াইনঘাটে বিপৎসীমার ৩৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আর বাউলাইয়ের পানি খালিয়াজুরিতে ২২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

বাংলাদেশের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তবর্তী ভারতীয় রাজ্যগুলোতে কয়েক দিন ধরে মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী ধরনের বৃষ্টিপাত হচ্ছে। আজ দুপুর ১টা থেকে আগে ২৪ ঘণ্টায় চেরাপুঞ্জিতে ৬৫ মিলিমিটার, ধুবরীতে ৪৮ মিলিমিটার, গ্যাংটকে ৬৩ মিলিমিটার ও তেজপুরে ৪২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।  

Leave a Reply

Your email address will not be published.