কচুয়ায় শেখ হাসিনা বৃত্তি ও বঙ্গমাতা সম্মাননা চালু

Uncategorized

Share This News !

ঢাকা: বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ড۔ সেলিম মাহমুদের উদ্যোগে চাঁদপুরের কচুয়ার প্রতিটি হাইস্কুল ও কলেজে শিক্ষা বৃত্তির কর্মসূচি চালু করা হয়েছে।  

এ কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি কলেজের বছরের সেরা মেধাবী শিক্ষার্থীকে ‘শেখ হাসিনা বৃত্তি’, স্কুলের সবচেয়ে মেধাবী ছাত্রকে ‘শেখ রাসেল বৃত্তি’, কলেজের সবচেয়ে মেধাবী ছাত্রীকে ‘রত্নগর্ভা শাহজাদী বেগম বৃত্তি’ ও বর্ষসেরা মেধাবী শিক্ষার্থী হিসেবে ‘শেখ হাসিনা বৃত্তি’ পাওয়া শিক্ষার্থীর  মাকে ‘বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেসা মুজিব সম্মাননা’ দেওয়া হবে।

গত শুক্রবার (১ এপ্রিল) চাঁদপুরের কচুয়ায় পালাখাল রোস্তম আলী ডিগ্রি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এ বৃত্তি কর্মসূচি উদ্বোধন করেন। তিনি মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৃত্তি ও মেধাবী শিক্ষার্থীর মাকে ‘বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেসা মুজিব সম্মাননা’ তুলে দেন।

এ বৃত্তি কর্মসূচি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ডা۔ দীপু মনি বলেন, শিক্ষার্থীর সাফল্যের জন্য তার মাকে সম্মাননা দেওয়ার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মানিত করার ঘটনা দেশে এটিই প্রথম। মায়েরা সামাজিকভাবে সবসময়ই অবহেলিত। প্রতিটি পরিবারে সন্তানদের সাফল্যের পেছনে মায়েদের যে অবদান সেটি অনেক সময়েই প্রকাশিত হয় না।

তিনি বলেন, মায়েরা সব সময়ই আড়ালে থেকে যায়। একজন সন্তানকে মানুষ করার পেছনে মায়ের যে কষ্ট এবং বিসর্জন, সেটি আমরা অনেকেই ভুলে যাই।

দীপু মনি বলেন, কচুয়ায় মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি ও তাদের মায়েদের বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেসা মুজিব সম্মাননা দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য আমি ড۔ সেলিম মাহমুদকে বিশেষ ধন্যবাদ জানাচ্ছি। ড۔ সেলিম এ এলাকার মায়েদের সম্মানিত করার যে মহৎ উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন, সেটিকে আমি সাধুবাদ জানাই।

দীপু মনি বলেন, মেধাবী শিক্ষার্থীদের মায়েদের জন্য যে সম্মাননা কচুয়ায় চালু হয়েছে, সেটি জাতির পিতার সহধর্মিনী বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের নামে নামকরণ করা যথার্থ হয়েছে। বঙ্গমাতা পর্দার অন্তরালে থেকে যেভাবে বাঙালির মুক্তি সংগ্রামে অবদান রেখেছেন, মায়ের মতো যেভাবে জাতিকে আগলে রেখেছিলেন, সেটি ইতিহাসে বিরল। তার সেই অবদানের কথা আমরা অনেকেই হয়তো জানি না। বঙ্গমাতার নাম মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সেটি প্রশংসনীয়।

ড۔ সেলিম মাহমুদের মা শাহজাদী বেগমের নামে প্রতিষ্ঠিত শাহজাদী বেগম ট্রাস্ট-এর মাধ্যমে প্ৰতিবছর কচুয়ার সব হাইস্কুল, কলেজ এবং মাদ্রাসায় এ বৃত্তি ও সম্মাননা দেওয়া হবে।  

ড۔ সেলিম মাহমুদ বলেন, বঙ্গমাতা একদিকে তার স্বামী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে স্বার্বক্ষণিক সহায়তা দিয়ে বাঙালির মুক্তি সংগ্রামে অবদান রেখেছেন, অন্যদিকে তিনি শেখ হাসিনার মতো একজন কালজয়ী রাষ্ট্রনায়কের জননী। আজ শেখ হাসিনার বিশ্বজয়ী সাফল্যের পেছনেও বঙ্গমাতার অবদান রয়েছে। শেখ হাসিনা এদেশে প্রতিটি নাগরিকের বাবার নামের সঙ্গে তার মায়ের নাম যুক্ত করার বিধান চালু করেন। এদেশে মায়ের মর্যাদা তিনিই বৃদ্ধি করেছেন।  

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর শিশু পুত্র রাসেলকে ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট কালো রাত্রিতে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। গ্রামাঞ্চলের শিশুদের মধ্যে তার নামটিও ছড়িয়ে দিতে হবে।  

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ড۔ সেলিম মাহমুদের রত্নগর্ভা মা শাহজাদী বেগমের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণসভা ও বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে বক্তব্য রাখেন- দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রী ডা۔ এনামুর রহমান এমপি, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড۔ সামদুল আলম, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি মোহাম্মদ খসরুজ্জামান, স্থানীয় সরকার সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ, তথ্য সচিব মকবুল হোসেন, আওয়ামী লীগের কৃষি ও সমবায় সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা۔ রোকেয়া সুলতানা, আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার এম এ সবুর,  আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য গোলাম রাব্বানী চিনু, কেন্দ্রীয় সদস্য আজিজুস সামাদ ডন, বরুড়ার সংসদ সদস্য নাসিমুল আলম চৌধুরী নজরুল,  
লক্ষ্মীপুরের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নূর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন, বাংলাদেশ বিমানের চেয়ারম্যান এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সিনিয়র সচিব সাজ্জাদুল হাসান, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ড۔ শাহজাহান মাহমূদ, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সদস্য ড۔ বিশ্বজিৎ চন্দ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মশিউর রহমান, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এ এফ এম আবদুল মঈন, ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটির চেয়ারম্যান ও উপাচার্য ড. আব্দুল মান্নান চৌধুরী, সাবেক নৌবাহিনী প্রধান এবং কুমিল্লা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল তাহের, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ড. মাকসুদ কামাল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড۔ নিজামুল হক ভূঁইয়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড۔ শফিউল আলম ভূঁইয়া, চ্যানেল একাত্তরের উপস্থাপক শবনম আজিম, চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র জিল্লুর রহমান জুয়েল, কচুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আইয়ুব আলী পাটোয়ারী, সাধারণ সম্পাদক সোহরাব উদ্দিন চৌধুরী, কচুয়ার মেয়র নাজমুল আলম স্বপন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মাহবুব আলম, কচুয়া উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক সালাহউদ্দিন সরকার। উপস্থিত ছিলেন পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম সোহায়েল, পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন, ফেনীর জেলা প্রশাসক আবু সেলিম মাহমুদ উল হাসান, লক্ষ্মীপুরের জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার হোছাইন আকন্দ, টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক মো. আতাউল গনি, চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ, চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মিলন মাহমুদ, চাঁদপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সামসুল ইসলাম প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.