আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিরতি চান সাকিব

খেলাধুলা

Share This News !

দক্ষিন আফ্রিকা সফরে ওয়ানডে সিরিজ থেকে বিরতি চেয়েছেন বাংলাদেশ দলের তারকা অল রাউন্ডার সাকিব আল হাসান। শারিরিক ও মানষিকভাবে সতেজ থেকে সফরে টেস্ট সিরিজে যোগ েিদওয়ার লক্ষে এ বিশ্রাম চেয়েছেন তিনি।

টেস্ট সিরিজে সাকিবের অংশগ্রহনে অনিশ্চয়তার গুঞ্জন থাকার পরও দক্ষিন আফ্রিকায় টেস্ট ও ওয়ানডে উভয় সিরিজের স্কোয়াডেই তাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। আফগানিস্তানের বিপক্ষে সদ্যসমাপ্ত সিরিজটি ‘একঘেয়ামি’ মনে হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সাকিব। তিন ওয়ানডে ও দুই টি-টোয়েন্টির ওই সিরিজে সাকিব ব্যাট হাতে করেছেন ৭৪ রান। আর বল হাতে শিকার করেছেন ৭ উইকেট।

টিভিসির একটি শ্যুটিংয়ে অংশ নিতে দুবাইয়ের উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়ার আগে রোববার রাতে সাকিব বলেন,‘ আমার মানষিক ও শারিকি যে অবস্থা, তাতে মনে হয়না খুব বেশী সংখ্যক আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে পারব। আমি যদি একটু বিরতি পাই, যদি আকর্ষন ফিরে পাই, তাহলে হয়তো বেশী সংখ্যক ম্যাচে খেলতে পারব। আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজটিকে আমার কাছে ‘একঘেয়ামি’ লেগেছে। কোনভাবেই এটিকে স্বস্তিকর মনে হয়নি। ওয়ানডে ও টি-২০ সিরিজটি আমার কাছে কোন ভাবেই উপভোগ্য মনে হয়নি। এমন মানষিকতা নিয়ে আমি দক্ষিন আফ্রিকা সফর করতে পারব বলে মনে হয় না।

খেলতে নেমে আমি সবার প্রত্যাশা পুরণ করতে চাই। সেখানে আমার সেরা পারফর্মেন্সের কোন নিশ্চয়তা নেই। তবে দেশের জন্য আমি অন্তত জানব যে সর্বোচ্চ চেস্টা করেছি। আমি অন্যদের সুযোগ যেমন কেড়ে নিতে চাই না, তেমনি সময়ও নস্ট করতে চাই না। এমন সাদামাটা খেলা খেলে মনে হচ্ছে দল ও দেশের সাথে প্রতারনা করছি।’

নিজের এই বিষয়গুলো ক্রিকেট অপারেশন্স এর চেয়ারম্যান জালাল ইউনুসকে জানিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেছেন সাকিব। তিনি এটি নিয়ে কয়েকদিন চিন্তা করতে চান।

সাকিব বলেন,‘ আমি অবশ্য প্রাথমিকভাবে বিসিবিকে (বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড) বলেছিলাম উভয় ফর্মেটের সিরিজেই আমি থাকব। কিন্তু পরক্ষনে আমার ভাবনায় এল এমন মানষিকতা নিয়ে আমি কিছু করতে পারব না। আমার শারিরিক ও মানষিক অবস্থা আমি জালাল ভাইকে জানিয়েছি। তিনি বলেছেন সিদ্ধান্ত দেয়ার আগে তিনি বিষয়টি নিয়ে ভাবার জন্য দুই দিন সময় চান।’

এর আগে, বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন আইপিএল নিলাম শুরুর আগে বলেছিলেন সাকিব আল হাসান ছয় মাসের ছুটি চেয়ে একটি আবেদন করেছেন। সেই হিসেবে দক্ষিন আফ্রিকা সফরে তার অংশগ্রহনের সুযোগ ছিল না। কিন্তু নিলামে সাকিব অবিক্রিত থেকে যাওয়ায় পাপন আশা করেছিল দক্ষিন আফ্রিকা সফরের পুরোটাতেই সাকিবকে পাওয়া যাবে।

বিষয়টি নিয়েও ব্যাখ্যা করেছেন সাকিব। বলেছেন, তিনি চান বিসিবি তাকে নিয়ে একটি বছরব্যাপী পরিকল্পনা তৈরি করুক। আগামী দুই বছরে দুটি বিশ্বকাপের (ওয়ানডে ও টি-২০) কথা বিবেচনা করে শুধুমাত্র সাদা বলের ক্রিকেট খেলতে চেয়েছিলেন তিনি।

টাইগার অল রাউন্ডার বলেন,‘ ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে এসে আমার একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা দরকার। সবকিছুর স্পষ্টতার জন্য আমার মনে হয় এটি গুরুত্বপুর্ন। বোর্ডে আমার দেয়া চিঠিতে আমি ছয় মাসের উল্লেখ করিনি। আমি বোর্ডকে বলেছি চলতি বছরের নভেম্বর পর্যন্ত আমি টেস্টের বাইরে থাকতে চাই। আমি সাদাবলেই পুরোপুরি মনোযোগী হতে চাই। আগামী দুই বছরে আমাদেরকে দুটি বিশ্বকাপ খেলতে হবে।’

সাকিব বলেন,‘ আমি একেবারেই টেস্ট ছাড়তে চাই না। কিন্তু যেহেতু আমরা টেস্ট দলে একটি ভারসম্য চাই, তাই বয়স ও শারিরিক অবস্থা বিবেচনায় আমার মনে হয়েছে আমি যদি সাদা বলের ক্রিকেটে সম্পুর্ন মনোযোগ দিতে পারি, তাহলে ওয়ানডে ও টি-২০ ক্রিকেটে আরো ভালো করতে পারব। তাই আমার মনে হয় যদি আমাকে নিয়ে একটি দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা করা হয়, তাহলে ভালো হবে। সেখানে সিরিজ বাই সিরিজ ভাবার প্রয়োজন নেই।’

আগামী ১২ মার্চ দক্ষিন আফ্রিকার উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়বে বাংলাদেশ দল। সেখানে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের পাশাপাশি তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে অংশ নিবে টাইগাররা। ম্যাচ তিনটি অনুষ্ঠিত হবে যথাক্রমে ১৮, ২০ ও ২৩ মার্চ। যেটি আইসিসি ওডিআই সুপার লিগের অংশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.